সংবাদ শিরোনাম :
দেশজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : রিজভী অল্প রানে গুটিয়ে গেল নেদারল্যান্ডস রংপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাতিল হতে পারে বিশ্বকাপের পাক-ভারত ম্যাচ! সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত ডিএমপি কমিশনার-র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি এবার রংপুরে হিন্দুপাড়ায় আগুন, আটক ২০ আমেরিকা ও কানাডাকে উসকানির ব্যাপারে সতর্ক করল চীন যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহ প্রতিদিন ২৫০০ রকেট ছুঁড়তে পারবে’ বিশ্বকাপ জিতেই অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান কোহলি চবির ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
ইরাকি নির্বাচনে বিজয়ের পথে মুকতাদা আল-সদর

ইরাকি নির্বাচনে বিজয়ের পথে মুকতাদা আল-সদর

ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পথে দেশটির শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদর। ভোটের প্রাথমিক ফল অনুসারে, এবারে তার আসন সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য বেড়েছে।

সোমবার (১১ অক্টোবর) সদরিস্ট মুভমেন্টের এক মুখপাত্র ও কর্মকর্তাদের বরাতে আল-জাজিরা এমন খবর দিয়েছে। শিয়া দলগুলোর মধ্যে তার পরে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি।

২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর থেকে সরকার ও সরকার গঠনে ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলো প্রাধান্য বিস্তার করছে। সুন্নি নেতা প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর ইরাকের পার্লামেন্টে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ছে। এছাড়া কুর্দিরাও ক্ষমতার স্বাদ পাচ্ছেন।

২০১৯ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভে সরকার পতনের পর নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগেই রোববারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর সাধারণ মানুষের মারাত্মক ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজনীতিবিদরা দেশ বেচে দিয়ে নিজেরা বিত্তশালী হচ্ছেন।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ডসংখ্যক কম, মাত্র ৪১ শতাংশ। এতে ক্ষমতাসীন অভিজাতদের কাছ থেকে ক্ষমতা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও ধর্মীয় দলগুলোকে ক্ষমতার প্রভাববলয় থেকে সরানো যাচ্ছে না।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানী বাগদাদসহ কয়েকটি প্রদেশের প্রাথমিক ভোট গণনার ফল বলছে, সদর ৭০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন। যদিও এই আসনগুলো নিশ্চিত হয়, তবে সরকার গঠনে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করতে পারবেন।

সদরের অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের আসন সংখ্যা ৭৩টি। স্থানীয় পত্রিকায়ও এই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। ইরাকি নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সদর এগিয়ে আছেন। তবে তার দল কতটি আসনে জয়ী হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, সংস্কারপন্থী প্রার্থীরা—যারা ২০১৯ সালের বিক্ষোভ থেকে উঠে এসেছেন—তারা ৩২৯ আসনের পার্লামেন্টে ভালো ফল করেছেন।

তবে মিলিশিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকা ইরাকি দলগুলোর আসন সংখ্যা কমেছে। গণবিক্ষোভের সময় মিলিশিয়াদের হাতে ৬০০ প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনে ওই নৃশংসতার প্রভাব পড়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে এবার তারা অল্প আসন পেয়েছে।

আগের নির্বাচনে ৫৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল সদরের জোট। অবিশ্বাস্য জনপ্রিয় এই নেতার প্রভাব দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। মার্কিন অভিযানের পর ইরাকি রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি ইরাকে বিদেশি আগ্রাসনের বিরোধী। সেটা হোক যুক্তরাষ্ট্র কিংবা প্রতিবেশী দেশ ইরানের। ২০০৩ সালের সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে তিনি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন। আর ইরাকি রাজনীতিতে ইরানের সংশ্লিষ্টতারও তুখোড় সমালোচক এই শিয়া নেতা।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN