সংবাদ শিরোনাম :
দেশজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : রিজভী অল্প রানে গুটিয়ে গেল নেদারল্যান্ডস রংপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাতিল হতে পারে বিশ্বকাপের পাক-ভারত ম্যাচ! সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত ডিএমপি কমিশনার-র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি এবার রংপুরে হিন্দুপাড়ায় আগুন, আটক ২০ আমেরিকা ও কানাডাকে উসকানির ব্যাপারে সতর্ক করল চীন যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহ প্রতিদিন ২৫০০ রকেট ছুঁড়তে পারবে’ বিশ্বকাপ জিতেই অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান কোহলি চবির ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
মসজিদের সঙ্গে আত্মার বন্ধন হোক মজবুত

মসজিদের সঙ্গে আত্মার বন্ধন হোক মজবুত

14 november 2020 4:19 pm

পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও পছন্দনীয় স্থান মসজিদ। যে মুমিন নামাজের স্বাদ পেয়েছে তার কাছে মনে হবে যেন দুনিয়ার সব সুখ মসজিদের জায়নামাজের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।  এটিই তার কাছে সবচেয়ে বেশি শান্তির জায়গা, তাই মসজিদের প্রতি থাকে তার এক গভীর আকর্ষণ। সে যেখানেই থাকুক না কেন, তার হৃদয় থাকে মসজিদের সঙ্গে অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ। তাই তো প্রতিদিন অন্তত পাঁচবার আজান শুনে ছুটে আসে মসজিদে, নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মসজিদগুলো আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে ডেকো না (সুরা জিন-১৮)। রসুল (সা.) বলেছেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়াই থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির লোককে তিনি তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, যাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি (বুখারি)। নবীজি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে পবিত্রতা অর্জন করে ফরজ নামাজ আদায় করার উদ্দেশে আল্লাহর ঘরের দিকে যায়, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং দ্বিতীয় পদক্ষেপে তার একটি মর্যাদা উন্নীত করা হয় (মুসলিম)। মুসলমান মাত্রই আজানের ধ্বনি শুনে আবেগাপ্লুত হবেন, আমোদিত হবেন, কারণ আজান হলো আল্লাহতায়ালার একত্ববাদ ও তাওহিদের মহান আওয়াজ। মসজিদের মিনার থেকে মুয়াজ্জিন দৈনিক পাঁচবার আজানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। উচ্চ আওয়াজে প্রচারিত আল্লাহর একত্ববাদের এই ঘোষণার মাধ্যমে মূলত বান্দা মহান প্রভুর বশ্যতার ঘোষণা দেয়। অবনত চিত্তে স্বীকার করে আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। মনের গভীর থেকে নবী (সা.)-এর নবুওয়ত-রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় পরম বিশ্বাসের সঙ্গে। সুতরাং এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জামাতে শামিল হওয়া ইমানের দাবি। অনেক জায়গায় দেখা যায়, আজান হয় কিন্তু কাতার পূর্ণ হয় না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ভালোভাবে অজু করলে পাপ মুছে যায়। বেশি বেশি মসজিদে গেলে পাপ ঝরে পড়ে। এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষা করলেও পাপ ঝরে যায়। তা আল্লাহর পথে পাহারার সমতুল্য (মুসলিম)। আমাদের গুনাহর বোঝা হালকা করতে প্রভুর দরজার ফকির হতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যারা অন্ধকারে মসজিদে যায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তাদের পেছনে পরিপূর্ণ আলোর ব্যবস্থা করবেন (আবু দাউদ)। হাকিম আল-মুসতাদরাকের ১/২১১ নং হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মসজিদের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়, তার সঙ্গে দুজন লেখক ফেরেশতা মসজিদের পথে প্রতিটি পদক্ষেপের বদলে তার জন্য ১০টি নেকি লেখেন। আর যে ব্যক্তি মসজিদের সালাতের অপেক্ষায় বসে আছে সে ইবাদতকারীর মতোই; সে বাড়িতে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তাকে মুসল্লি হিসেবে গণ্য করা হয়। কবি আল মাহমুদ ‘কালো চোখের কাসিদা’য় লেখেন-  ‘তুমি কি শুনতে পাও অন্য এক মিনারের আজান? কলবের ভিতর থেকে ডাক দেয়, নিদ্রা নয়, নিদ্রা নয়, প্রেম।’

মুয়াজ্জিনের আজানের সঙ্গে বান্দার আত্মায় আরেক আজান ধ্বনিত হয়। অন্তরের কান থাকলেই কেবল সে আজানে সাড়া দিয়ে গভীর ঘুম, কনকনে শীত আর ঘরের মায়া ত্যাগ করে জামাতে শামিল হওয়া যায়। যাদের আত্মা সজাগ নেই তারাই কেবল আজানের মুগ্ধতা উপলব্ধি করতে পারে না। আজান শুনেও ঘর, পরিবার-পরিজন, ব্যস্ততার ওপর প্রভুর স্মরণকে স্থান দিতে পারে না। প্রিয় পাঠক। আত্মিক প্রশান্তি লাভ, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও ইমান আমলের উন্নত করতে মসজিদের সঙ্গে আত্মার বন্ধন মজবুত করা প্রতিটি  মুসলিমের দায়িত্ব।

Print Friendly, PDF & Email

আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN