আজ সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, এখন সময়ঃ সকাল ১১:৩৪
News Headline :
হত্যাকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বানাতে দেড় লাখ টাকা নেন এএসআই

হত্যাকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বানাতে দেড় লাখ টাকা নেন এএসআই

প্রকাশ্যে হত্যা, কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হার্ট অ্যাটাক। তাও আবার ঘটনাস্থলে নয় মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। চার্জশিট থেকে প্রত্যাহার করা হবে আসামির নাম।

এমন গল্প সাজাতে অভিযুক্ত হত্যাকারীর পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয় চুক্তি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা।

এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা পুলিশের এক সদস্য ও কথিত সাংবাদিকসহ মোট তিনজন। প্রতারক চক্রের প্রধান পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন। আর অন্যজন কথিক সাংবাদিক নিজামউদ্দিন ও তাদের সহযোগী মিজানুর রহমান।

এদের তিনজনকেই গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার মামলা করা হয়।বাড়ির দরজা খোলাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রামপুরার উলনে গত ২৮ আগস্ট বাড়িওয়ালা কাজী জিকুর হাতে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ ভাড়াটিয়া কামরুল ইসলাম। এরপর একই এলাকার বেটার লাইফ হাসপাতালের নেওয়া হলে মারা যান আহত কামরুল। ঘটনার পর পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা কাজী জিকু। এ ঘটনায় সেদিনই হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। দৃশ্যপটে তখন পুলিশের বরখাস্তকৃত এএসআই সাজ্জাদ ও তার দুই সহযোগী নাজিমউদ্দিন এবং মিজানুর রহমান। অভিযুক্ত কাজী জিকুকে বাঁচানোর নামে জাল বিছানো হয় প্রতারণার। জিকুর পরিবারের সঙ্গে চুক্তি হয় দেড় লাখ টাকার। বিনিময়ে অভিযোগপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে আসামির নাম। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার ঘটনা বদলে যাবে স্বাভাবিক মৃত্যুতে। কিন্তু মামলা তদারককারী হাতিরঝিল থানা এ বিষয়ে জানে না কিছুই।

আর এ ঘটনা সাজাতে জিকুর স্ত্রী রোকসানা আক্তারের কাছ থেকে এএসআই সাজ্জাদ ও নিজামউদ্দিন হাতিয়ে নেয় দেড় লাখ টাকা। সূত্র বলছে, চলতি মাসের দুই তারিখ হাতিরঝিল থেকে ৮০ হাজার টাকা রোকসানা তুলে দেন সাজ্জাদ ও নিজামউদ্দিনের হাতে। এসময় তাদের সঙ্গে ছিল কাজল নামে আরেক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের কর্মচারী বলে পরিচয় দেন।

এরপর দিনই ঢাকা মেডিকেলের সামনে ময়নাদন্তের রিপোর্ট বদলাতে তার হাতে আরও ৭০ হাজার টাকা দেন জিকুর স্ত্রী রোকসানা।পলাতক কাজী জিকু ঘটনার পরপর বিভিন্ন সময় সিলেট, রাজশাহী, কক্সবাজার ও রাজবাড়িতে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। জিকু রাজশাহীতে থেকে তার এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু ব্যবসায়ী সেজে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানাধীন দাসপুকুর এলাকা থেকে জিকুকে গ্রেপ্তার করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয় একটি প্রাইভেট কার ও নগদ ৩৭ হাজার টাকা।পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আত্মগোপনে থাকা জিকু গ্রেপ্তারের পর ঘটনা স্বীকার করেছে। ১৬৪ ধারায় জাবানবন্দিও দিয়েছে সে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে হাতিরঝিল থানায়।লালবাগ থানার এএসআই সাজ্জাদ হোসেন গত বছর বরিশালগামী এক লঞ্চ থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ আদায় করে। এ ঘটনায় সাজ্জাদকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN