আজ সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, এখন সময়ঃ সকাল ১১:২৯
News Headline :
দেশে নির্মিত ভবনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দেশে নির্মিত ভবনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে জনবহুল বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সিসমিক জোনে অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থেকেও আমরা ঝুঁকিমুক্ত নই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

প্রতিমন্ত্রী রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাবুবাজারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১ উপলক্ষে ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে করণীয়’ বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়ায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এসময় ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

বলেন, আমাদের দেশের প্রধান প্রধান শহরে মানুষ বাড়ার পাশাপাশি আবাসিক-অনাবাসিক স্থাপনা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কিন্তু এসব স্থাপনা কতটা মানসম্পন্ন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে সেগুলো টিকে থাকবে কি না এই আশঙ্কা অনেক বেশি। দেশে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয় না বলেই এমন শঙ্কা বেশি বলে জানান তিনি।এনামুর রহমান বলেন, ‘ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্বাভাস দেওয়ার উপায় এখনও বের হয়নি। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা বলা মুশকিল, তবে জনসচেতনতা ও পূর্ব প্রস্তুতি থাকলে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, খরা, শৈত্য প্রবাহ, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত এবং ভূমিধস আমাদের অতি পরিচিত দুর্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সে কাজটাই করে যাচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ডা. মো. এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা নেই। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আর বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

তাই ভূমিকম্পের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের স্থাপনা দুর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান এনামুর রহমান‌।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অ্যাকোয়াটিক সি সার্চবোট, মেরিন রেস্কিউ বোট, মেগাফোন সাইরেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সহজ করার জন্য আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার সেন, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN