আজ সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, এখন সময়ঃ সকাল ১১:০২
News Headline :
টেকনাফ বন্দরে দালাল চক্রের মূলহোতা আটক করেছে র‌্যাব

টেকনাফ বন্দরে দালাল চক্রের মূলহোতা আটক করেছে র‌্যাব

দালালীর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া টেকনাফ বন্দরের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলামকে (৪১) আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

নুরুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার কালাইনগরের ধুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

আটককালে তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকার বাংলাদেশি জাল নোট,  ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের মুদ্রা, নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ বাংলাদেশি টাকা এবং ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত নুরুল ইসলাম তার অপরাধ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। এসময় সে জানায়, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থল বন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা হারে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরি নেয়। বন্দরে কর্মরত থাকাকালীন তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সে চোরাকারবারী, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালি ইত্যাদির কৌশল রপ্ত করে। এরপর তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সে বন্দরে বিভিন্ন রকম দালালীর সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে একটি দালালী সিন্ডিকেট তৈরি করে। ২০০৯ সালে সে চাকুরি ছেড়ে দেয়। তারই আস্থাভাজন একজনকে উক্ত কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে,  সে দালাল সিন্ডিকেটটির নিয়ন্ত্রণ রাখে। এভাবে সে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

র‌্যাব জানায় আটককৃত নুরুল ইসলাম টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রিক দালালী সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা, তার সিন্ডিকেটের ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। যারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দালালী কার্যক্রমগুলো করে থাকে। এই সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পথিমধ্যে অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। সিন্ডিকেটের সহায়তায় পার্শ্ববর্তী দেশ হতে কাঠ, শুটকী মাছ, বরই আচার, মাছ ইত্যাদির আড়ালে অবৈধ পণ্য নিয়ে আসত। চক্রটির সদস্যরা টেকনাফ বন্দর ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন বর্হিগমন নিয়ন্ত্রণ করত। 

আটককৃত নুরুল ইসলামের সাথে চিহ্নিত মাদক কারবারীদের যোগসাজশ ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া সে অন্যান্য অবৈধ পণ্যের কারবারের জন্য হুন্ডি সিন্ডিকেটের সাথে সমন্বয় এবং চতুরতার সাথে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েজ কারসাজী করত। অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে সে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম।

ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে তার ৬ টি বাড়ি ও ১৩ টি প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে সর্বমোট ৩৭টি জায়গা/প্লট/বাগানবাড়ি/বাড়ি রয়েছে।

তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৪৬০ কোটি টাকা। তার নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯ টি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে সে জাহাজ শিল্প ও ঢাকার সন্নিকটে বিনোদন পার্কে বিনিয়োগ করছে বলে জানা যায়।

আটককৃত নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN