আজ সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, এখন সময়ঃ সকাল ১০:৩৮
News Headline :
ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করলো সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করলো সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণ এবং ঘর বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তার একদিন পর আবার তা প্রত্যাহার করেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ৩০ আগস্ট উপজেলা কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসচ্ছল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে  ১২টি পাকাঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে ৯টি ঘরের স্থান চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে ইউএনও দপ্তর। বাকি ৩টি ঘরের স্থান নির্মাণ উপযোগী না হওয়ায় তা তদন্তাধীন রয়েছে। আর সেই ৩টি ঘর যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের পাকা ঘর রয়েছে এবং তারা সচ্ছল বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, তিনটি ঘরের জায়গা নিচু এবং মাটি মজবুদ না হওয়ায় কিছুদিন পর যদি এসব ঘর ধসে যায় তখন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বিধায় প্রকল্পের পরিচালক স্যার আমাকে  ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন।  

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, যে তিনটি ঘর প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়েছে তার মধ্যে একটি ঘরের মালিক বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত সাজু শেখের পরিবার। তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর বাতিল করায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেন। তাদের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত ২৯ তারিখে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা বিভিন্ন মিডিয়ার সামনে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করেন।

তার একদিন পর গতকাল ৩০ জুলাই দুপুর একটার দিকে উপজেলা কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন এবং ভুল বুঝে ঈর্ষার বশীভূত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বলে তারা  ইউএনও’র কাছে ভুল স্বীকার করেন।
 
প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজু শেখের কন্যা মোসাম্মৎ সাথী আক্তার বলেন, স্যারের কোনো দোষ নেই। আমরা বুঝতে না পেরে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছিলাম। আজ তার জন্য ইউএনও স্যারের কাছে আমরা লজ্জিত। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবেক ডেপুটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুজাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার না জেনে না বুঝে ইউএনও সাহেবের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিল তা ছিল মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তারা তাদের ভুল বুঝে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ইউএনও  সাহেব বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন।

এ নিয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ কালের কণ্ঠকে জানান, তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল। তার একদিনের মাথায় তারা আবার স্বেচ্ছায় নিজেরা এসে নিজ থেকে তাদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। ভুলের জন্য আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি  চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনা করে ইস্যুটি সমাপ্ত করেছি। 

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার সুজাত আলী, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহব্বত কবীর, ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান ইমরান, স্থানীয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মুক্তাদির বিল্লাহ শিপন, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহবুবুর রশীদ খুররম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, বীর মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজু শেখের মেয়ে মোসাম্মৎ সাথী আক্তার ও ছেলে মোহাম্মদ মোস্তফাসহ অন্যান্যরা। 

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2015-2021 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN