উত্তর জনপদে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে

উত্তর জনপদে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে

19 Disem 2020, 12:56 Pm

দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত জেঁকে বসছে। তেঁতুলিয়াসহ এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসায় চলতি মৌসুমের প্রথম দফা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চল ছাড়িয়ে পশ্চিমাঞ্চলেও

শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার ঘটতে পারে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। আর বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ সপ্তাহ খানেক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজার ও সীতাকুণ্ডে ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পৌষের শুরুতেই যেন মাঘের শীত নেমে এসেছে দেশের সর্ব উত্তরের জনপথ বাংলাবান্ধা, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়সহ পুরো এলাকায়। শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সূর্য উঠার পর শীতের মাত্রা কিছুটা কমে গেলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বিশেষ করে ভোর রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শীতের প্রকোপ থাকছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল অসহায় অসংখ্য মানুষ। তীব্র শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে এসব রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুরে ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, কুয়াশার প্রভাব কমে আসায় হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের উত্তর জনপদের এ অঞ্চলে বইতে শুরু করেছেন উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হিমালয়ের হিমশীতল বাতাস। একই সঙ্গে বইতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। দিনাজপুরের অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়জুর রহমান জানান, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতে শিশুদের গরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে গরম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য তিনি মা ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2015-2020 Muktiralo24.Com
Design & Developed BY SD REPON KHAN